শুক্রবার । ২৭শে মার্চ, ২০২৬ । ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২

বিশ্বকাপের খেলা দেখতে যেতে বাড়ি বিক্রি করছেন এই ‘সুপারফ্যান’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সেই ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপ থেকে শুরু। এরপর আরও আটটি বিশ্বকাপ হয়েছে। ৯ বারই মাঠে বসে খেলা দেখেছেন অ্যান্ডি মিলনে, যাকে বলা হয় ইংল্যান্ডের ‘সুপারফ্যান’। আসন্ন বিশ্বকাপেও তিনি গ্যালারি থেকে থ্রি লায়নদের খেলা উপভোগ করতে চান। ‘দর্শক ক্যারিয়ারের’ দশম আসরটি ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে জেনেও দমে যাননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ দেখতে সাত সপ্তাহের ভ্রমণ পরিকল্পনা করেছেন তিনি, যা বাস্তবায়নে নিজের বাড়ি বিক্রি করছেন এই ৬২ বছর বয়সী ইংল্যান্ডভক্ত।

ইংল্যান্ডের পুরুষ ও নারী ফুটবল ম্যাচের দর্শক গ্যালারির বেশ পরিচিত মুখ মিলনে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে থ্রি লায়নদের জার্সি ও হাতে রেপ্লিকা ট্রফি নিয়ে তার তোলা ছবি ভাইরাল হয়েছিল। তবে প্রথমবার মাঠে বসে বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল বাজে। ১৯ বছর বয়সে স্পেনে খেলা দেখতে গিয়ে তার সব জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়। কিন্তু থামেননি তিনি। দশম বিশ্বকাপ উপভোগ করতে চান মাঠে বসে।

অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক থাইল্যান্ডে থাকছেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের সাফল্য তাকে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করছে মাঠে বসে খেলা দেখতে। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নারী বিশ্বকাপে উপস্থিত থেকে দলকে ফাইনালে উঠতে দেখেছেন। এবার নিশ্চয় হ্যারি কেইনদেরও একই জায়গায় দেখার আশা করছেন মিলনে।

অনেকের চোখে ইংলিশ ফুটবল কোচ ‘স্টিভ ম্যাকলারেনের জমজ’ হিসেবে বর্ণিত মিলনে এবার তার চেশায়ারের নর্থউইচে অবস্থিত দ্বিতীয় বাড়িটি সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ডে বিক্রি করতে চাইছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি। এই বছরের টুর্নামেন্টে ভ্রমণ খরচ যোগাতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ডেইলি মিরর-কে বললেন, ‘আমি অবশ্যই পুরো টুর্নামেন্ট দেখতে চাই। আমি ৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রে যাব। সাত সপ্তাহ সেখানে থাকব, তাই অনেক অর্থের প্রয়োজন।’

সবশেষ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে মিলনে বললেন, ‘কাতারে শেষ টুর্নামেন্ট ছিল আমার কাছে উপহারের মতো। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সঞ্চয় করে যাচ্ছি। আমাদের একটি দ্বিতীয় বাড়ি আছে ২৭ বছর ধরে। মনে হচ্ছে সেটা বিক্রি করে খরচ যোগানোর এখনই সঠিক সময়।’

১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ দেখবেন মিলনে। সেখানেই গ্রেসল্যান্ডে অবস্থিত এলভিস প্রিসলের পুরোনো বাড়ির উদ্দেশ্যে রোড ট্রিপ করার পরিকল্পনা তার। ইংল্যান্ড সাপোর্টার্স ট্র্যাভেল ক্লাবের শীর্ষস্থানীয় সদস্য তিনি। তারাই যুক্তরাষ্ট্রে ইংল্যান্ডের গ্রুপ ম্যাচগুলোর টিকিটের বন্দোবস্ত করে দিয়েছে। দল ফাইনালে উঠলেও টিকিট তারাই দেবে।

অন্য সব ভক্তের মতো মিলনেও ধরে রেখেছেন, এবার বেশ ব্যয়বহুল ভ্রমণ হবে। ইতোমধ্যে টিকিটের দাম বৃদ্ধি করায় ফিফা বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছে। বাজারে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের গ্রুপ ম্যাচের টিকিটের দাম ইতোমধ্যে ৪৫০ পাউন্ড ছাড়িয়েছে।

গ্রাঙ্গে স্কুলের বিজ্ঞানের প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘আমি যতটুকু পারি খরচ কম করার চেষ্টা করি। সম্ভব হলে আমি অন্যের সাহায্য নিয়ে বিনামূল্যে থাকব। আমি ভাগ্যবান যে মেক্সিকো, ডালাস ও ভ্যানকুভারে আমার অনেক বন্ধু আছে। ভ্রমণ খরচ অনেক ব্যয়বহুল। আমি ফ্লাইটের টিকিট আগেভাগেই কিনে রেখেছি, যাতে সময় সামান্য পরিবর্তন হলেও টিকিট রি-শিডিউল করার সুবিধা পাওয়া যায়।’




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন